Description
ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার:
ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার হলো একটি জৈব সার, যা মূলত কেঁচোর মাধ্যমে পচনশীল জৈব পদার্থ (যেমন- গোবর, রান্নার অবশিষ্টাংশ, লতাপাতা) প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয়। একে ‘সোনালী সার’ও বলা হয়।
ভার্মি কম্পোস্টের প্রধান গুণাগুণ ও উপকারিতাগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. পুষ্টিগুণে ভরপুর
সাধারণ কম্পোস্ট বা গোবর সারের তুলনায় ভার্মি কম্পোস্টে পুষ্টি উপাদান অনেক বেশি থাকে। এতে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়াম ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও দস্তা থাকে।
২. মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি
- এটি মাটির জল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ফলে খরা মৌসুমেও মাটি সহজে শুকিয়ে যায় না।
- মাটির বায়ু চলাচল (Aeration) বৃদ্ধি করে, যা শিকড়ের বৃদ্ধিতে সহায়ক।
- বেলে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং এঁটেল মাটির আঠালো ভাব কমিয়ে ঝুরঝুরে করে।
৩. গাছের দ্রুত বৃদ্ধি ও ফলন
- এই সারে প্রাকৃতিকভাবে কিছু হরমোন (যেমন- অক্সিন, জিবেরেলিন) থাকে যা গাছের দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
- এটি ব্যবহারের ফলে ফসলের গুণমান, স্বাদ ও রং ভালো হয় এবং ফলন প্রায় ২৫-৩০% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
- ভার্মি কম্পোস্টে থাকা উপকারী অণুজীব ও ছত্রাক গাছের শিকড়কে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
- গাছকে প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিকে থাকার শক্তি জোগায়।
৫. পরিবেশবান্ধব
- এটি সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত, তাই মাটির বন্ধু পোকা (যেমন- কেঁচো) বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না।
- দীর্ঘমেয়াদে মাটির এসিডিটি বা অম্লত্ব নিয়ন্ত্রণ করে মাটির স্বাস্থ্য ঠিক রাখে।
ব্যবহারের নিয়ম:
- টবের গাছের জন্য: প্রতি মাসে ১-২ মুঠো সার গোড়ায় দিয়ে মাটি ওলটপালট করে দিন।
- জমির জন্য: বিঘাপ্রতি ১৫০-২০০ কেজি সার ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারের পর হালকা পানি দিলে এটি দ্রুত মাটির সাথে মিশে কার্যকর হতে শুরু করে।





